Dhaka ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়। দুর্নীতি, অবৈধ ভিওআইপি এবং উগ্রপন্থায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাঁপছে দপ্তর

ঢাকা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাত টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং আর্থিক শক্তির বলয়ে থেকে তিনি অপারদর্শী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। বিষয়টি এখন দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঢাকায় আরামদায়ক পোস্টিং, দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধি—কোথা থেকে এলো এই ক্ষমতা?

অভিযোগে বলা হয়, চাকরির শুরু থেকেই তিনি ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, যা সাধারণত খুব সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তার ভাগ্যে জোটে। দ্রুত বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনা এবং সম্পদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সহকর্মীদের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়। স্বচ্ছ সম্পদ বিবরণী কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিদেশি পোস্টিংয়ের আড়ালে কোটি টাকার ভিওআইপি কারবার—এখনো অস্বীকারও নয়, ব্যাখ্যাও নয়

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিদেশে দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ ভিওআইপির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা আসত। এ ঘটনায় দুদকের মামলাও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের মতে, “নীরবতা” অনেক প্রশ্নই আরও ঘনীভূত করছে।

সাময়িক বরখাস্তের পর উগ্রপন্থায় ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ—নাজুক নিরাপত্তা সংকেত

আরও অভিযোগ উঠেছে, বরখাস্তের সময় তিনি উগ্র মতাদর্শধারী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় এমন প্রবণতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কোটা আন্দোলনে অস্ত্র হাতে উপস্থিতির অভিযোগ 

কোটা আন্দোলনের সময় তাকে অস্ত্রসহ মাঠে দেখা গেছে বলে কয়েকটি পক্ষ অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, সহিংসতায় ব্যবহৃত অস্ত্র, আহতদের বর্ণনা এবং সময়ের মিল ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি, যা তদন্ত দাবি আরও শক্ত করেছে।

ফোন বন্ধ, ইমেইলে সাড়া নেই, সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিগত—কেন এই নীরবতা?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ও ইমেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও লক করা, ফলে প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ নেই।

গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ‘অদৃশ্য প্রভাব’—স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া কোন পথ নেই

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশের নিরাপত্তা, তথ্যপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর একটি। সেখানে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ উত্থাপন করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,
“অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা যাই হোক, তদন্ত শুরু না হলে এই প্রশ্নের মেঘ কেবল ঘনীভূত হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনূস–নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে অর্থ লেনদেনে ‘বহুমাত্রিক অনিয়ম’: তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়। দুর্নীতি, অবৈধ ভিওআইপি এবং উগ্রপন্থায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাঁপছে দপ্তর

Update Time : ১২:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাত টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং আর্থিক শক্তির বলয়ে থেকে তিনি অপারদর্শী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। বিষয়টি এখন দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঢাকায় আরামদায়ক পোস্টিং, দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধি—কোথা থেকে এলো এই ক্ষমতা?

অভিযোগে বলা হয়, চাকরির শুরু থেকেই তিনি ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, যা সাধারণত খুব সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তার ভাগ্যে জোটে। দ্রুত বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনা এবং সম্পদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সহকর্মীদের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়। স্বচ্ছ সম্পদ বিবরণী কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিদেশি পোস্টিংয়ের আড়ালে কোটি টাকার ভিওআইপি কারবার—এখনো অস্বীকারও নয়, ব্যাখ্যাও নয়

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিদেশে দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ ভিওআইপির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা আসত। এ ঘটনায় দুদকের মামলাও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের মতে, “নীরবতা” অনেক প্রশ্নই আরও ঘনীভূত করছে।

সাময়িক বরখাস্তের পর উগ্রপন্থায় ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ—নাজুক নিরাপত্তা সংকেত

আরও অভিযোগ উঠেছে, বরখাস্তের সময় তিনি উগ্র মতাদর্শধারী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় এমন প্রবণতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কোটা আন্দোলনে অস্ত্র হাতে উপস্থিতির অভিযোগ 

কোটা আন্দোলনের সময় তাকে অস্ত্রসহ মাঠে দেখা গেছে বলে কয়েকটি পক্ষ অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, সহিংসতায় ব্যবহৃত অস্ত্র, আহতদের বর্ণনা এবং সময়ের মিল ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি, যা তদন্ত দাবি আরও শক্ত করেছে।

ফোন বন্ধ, ইমেইলে সাড়া নেই, সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিগত—কেন এই নীরবতা?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ও ইমেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও লক করা, ফলে প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ নেই।

গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ‘অদৃশ্য প্রভাব’—স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া কোন পথ নেই

টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশের নিরাপত্তা, তথ্যপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর একটি। সেখানে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ উত্থাপন করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,
“অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা যাই হোক, তদন্ত শুরু না হলে এই প্রশ্নের মেঘ কেবল ঘনীভূত হবে।”