৫ আগস্টের পর হঠাৎ করেই নিজেকে প্রভাবশালী বানিয়ে ফেলেছেন এডভোকেট মোঃ মঈনুদ্দীন৷ ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার নামিয় আসামী হয়েও এখনো রয়েছেন চট্টগ্রাম আদালতের এপিপি পদে। শুধু ছাত্র জনতার ওপর হামলাই নয় চলতি ২০২৫ সালের ১ মে এক আইনজীবীকে মারধরের মামলার আসামীও তিনি। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে৷
এখানেই শেষ নয় মঈনুদ্দীনের পিসিপিআর বলছে তিনি ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট কোতোয়ালি থানার একটি চুরির মামলায় মধ্যপ অবস্থায় গ্রেফতারও হয়েছিলেন যে মামলায় তিনি এজাহার ভূক্ত আসামী ছিলেন৷ দাড়ি, টুপি পরিহিত এই নামধারী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে পরকিয়ার অভিযোগ৷ জামাল খান এলাকার আম্বিয়া সেরীন নামের একটি এপার্টমেন্টনের ই-৫ ফ্ল্যাটের মালিক রানা’র স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন এই এপিপি মঈনুদ্দীন৷ লজ্জায় সেই ফ্ল্যাট মালিক ঐ এপার্টমেন্ট থেকে চলে যায়। সর্বশেষ ৫ আগস্টের পর আম্বিয়া হোল্ডিংস নামক যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একাধিক ফ্ল্যাট কিনে মঈনুদ্দীন বসবাস করছেন সেই প্রতিষ্ঠান থেকে নোটা অংকের অর্থের জন্য মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগের ভয় দেখাতে গিয়ে শতাধীক এপার্টমেন্ট মালিকদের ফ্ল্যাট ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন৷ এপিপি হওয়ার প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরে আম্বিয়া সেরীন এপার্টমেন্ট ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি বনে যাওয়া মঈনুদ্দীনের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য পুরো এপার্টমেন্ট ভবনটিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করে ভাঙ্গার পরিকল্পনা করছেন মঈনুদ্দীন৷ ফলে শতাধীক ফ্ল্যাট মালিকরা ঘর ছাড়া হওয়ার আশংকার মধ্যে বসবাস করছেন৷
আওয়ামী লীগের শাসন আমলে তাকে কখনো কোন লড়াই সংগ্রামে দেখা যায়নি৷ বিএনপি দলীয় নেতা কর্মীদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগের আমলে রাজপথে তো দূরের কথা দলের নেতা কর্মীদের আশে পাশেও তিনি ছিলেন না৷ উলটো আওয়ামী লীগের শাসন আমলে নানান কৌশলে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন তিনি৷ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আম্বিয়া সেরীন ভবনেই তার ও তার স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট রয়েছে৷ মঈনুদ্দীনের স্ত্রী একজন সাধারণ গৃহীনি হয়েও কিভাবে ফ্ল্যাটের মালিক হলেন এ নিয়ে দুদকে অভিযোগ করেছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে৷
একাধিক ফ্ল্যাট মালিক জানান, মঈনুদ্দীন সাহেব এখন যেমন ইচ্ছে তেমন ঘটনা জন্ম দিচ্ছেন৷ নিজের ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে সিডিএ তে দরখাস্ত দিয়ে এখন আমাদের সবার ফ্ল্যাটকে ভাঙ্গার ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন৷ মঈনুদ্দীন ভালো করেই জানতেন এই ভবনে সিডিএ’র নকশার বাহিরে অনেক কিছুই বাড়তি নির্মিত হয়েছে৷ তিনি জেনে শুনে এখানে ফ্ল্যাট কিনে এক যুগের বেশী সময় বসবাস করার পর এখন এখানে ওখানে চিঠি লিখে আমাদের সবাইকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন৷ তিনি একক স্বিদ্ধান্তে যা খুশি তাই করছেন অথচ আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই বসবাস করছিলাম৷
এই বিষয়ে মোঃ মঈনুদ্দীনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি জবাব দেননি৷ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে মঈনুদ্দীনের বিষয়ে তদন্ত করছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে৷