একটি পোশাক শিল্প কারখানায় কর্মরত গার্মেন্টসকর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সহিংসতার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে কারখানা সংলগ্ন এলাকায়।
নিহত দীপু দাস সম্প্রতি কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তবে ওই পদটির জন্য আরও তিনজন প্রার্থী ছিলেন, যারা তার পদোন্নতিতে অসন্তুষ্ট ছিলেন। পদোন্নতির পর পাওনা টাকা ও হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীপু দাসের সঙ্গে ওই সহকর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিরোধের জের ধরে দীপু দাসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ধর্ম অবমাননার একটি মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দীপু দাস’ নামের একটি ভুয়া আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কারখানার পাশেই জড়ো হয় শত শত মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপস্থিত জনতার একটি অংশ দীপু দাসকে প্রথমে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এরপর তাকে গলায় দড়ি বেঁধে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং জীবিত অবস্থায় তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে বহু মানুষ উপস্থিত থাকলেও কাউকে তাকে রক্ষা করতে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানাতে দেখা যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীপু দাস স্মার্টফোন ব্যবহার করতেন না; তিনি একটি সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, যাচাই ছাড়া গুজবের ভিত্তিতে কাউকে হত্যা করা চরম অপরাধ এবং এটি আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








